নিজস্ব প্রতিবেদক:
নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ¦ল জৌধুরীর বেপরোয়া লুটপাটে লক্ষ্মীপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) অন্ধকার নেমে এসেছে। স্থবির হয়ে পড়ছে উন্নয়ন কার্যক্রম। উজ্জ্বল চৌধুরীর চরম অবহেলা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতায় লক্ষ্মীপুর এলজিইডির দাপ্তরিক কাঠামোতে বিরাজ করছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। অফিসের প্রশাসনিক ভারসাম্য রক্ষা করতে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ। চরম অনিয়ম দুর্নীতির কারণে মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলীদের সঙ্গে সমন্বয় না থাকা এবং সার্বিক বেহাল দশার কারণে চার মাসে সদর এলজিইডি কার্যালয়ের দুজন উপজেলা প্রকৌশলী এবং দুজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী একযোগে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। একের পর এক প্রকৌশলীর বিদায়ে দাপ্তরিক কার্যক্রমে চরম বিশৃঙ্খলা ও ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি স্থানীয় ঠিকাদারদের সঙ্গেও তৈরি হয়েছে নিত্য-নতুন জটিলতা।
আনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৬ এর ডিসেম্বরে তিনি দপ্তরটির দায়িত্বে এসে পদ ও পদবীকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে সরকারি বরাদ্দ বিভিন্ন কৌশলে হাতিয়ে নেয়ার কার্যক্রমে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। টেন্ডার থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ে উন্নয়নমূলক কাজের বাস্তাবায়ন ও বিল পরিশোধের বিভিন্ন পর্যায়ে পার্সেন্টেজ আদায় করছেন এই প্রকৌশলী। এমনকি এলটিএম টেন্ডারে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিয়ে বরাদ্দের ৫% অগ্রীম উৎকোচ নিয়ে গত ১০ মাসে কয়েক কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য করেছেন তিনি। এ প্রক্রিয়ায় তিনি মেসার্স নিলিমা ট্রেডার্স, মেসার্স জামাল এন্ড সন্স, এসএম এফএন এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স আরমান ট্রেডার্স, মেসার্স মাস্টার এন্ড সন্স, এ জেড এন্টারপ্রাইজ ও জাদু গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে অসংখ্য কাজ পাইয়ে দিয়ে বড় অংকের ঘুষ বাণিজ্য করেছেন প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।
লক্ষ্মীপুরের পূর্বে তিনি গাইবান্ধায় মাত্র ৬ মাসের দায়িত্ব পালনে মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ খাতের বেশীরভাগ কাজ পিপিআর বহির্ভূতভাবে ওটিএম পদ্ধতিতে টেন্ডার আহ্বান করে পঠন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। সেখানে কাজ শেষ না হলেও অসংখ্য প্রকল্পের কাজে চুড়ান্ত বিল অনুমোদন করেও কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই লুটেরা প্রকৌশলী।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে লক্ষ্মীপুরে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) দুটি ভবনের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ৩৩ কোটি ১৯ লাখ টাকার শতভাগ বিল পরিশোধ কনে প্রকৌশলী উজ্জ্বল চেধুরী। অনিয়ম দুর্নীতি আর তদারকহীনতার এই চাঞ্চল্যকর চিত্র সামনে আসার পর জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। পুরো ঘটনায় কাঠগড়ায় উঠে এসেছেন দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী।
অভিযোগ উঠেছে, নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে ও একক সিদ্ধান্তে জুন ক্লোজিংয়ের দোহাই দিয়ে নির্ধারিত কাজের অনেকাংশ বাকী থাকলেও শতভাগ বিল ছাড় করে দিয়েছেন মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা নিয়ে।।
সরেজমিন দেখা যায়, খাতায়-কলমে শতভাগ কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে এখনো ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার কাজ বাকি। পরিমাপ বইয়ে (এমবি) ভূয়া তথ্যাদি সংযোজন এবং গুণগত মান যাচাইয়ের ফেক সনদ সমন্বয় করে কীভাবে এই বিল পরিশোধ করা হলো এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলো তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে বিপুল অঙ্কের অগ্রিম বিল তুলে নিলেও প্রকল্প এলাকায় দেখা দিয়েছে চরম শ্রমিক অসন্তোষ। অনিয়ম ঢাকতে তড়িঘড়ি কাজের গতি বাড়ানো হলেও শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ করছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বকেয়া পাওনা না পেয়ে সম্প্রতি ভূক্তভোগী শ্রমিকরা লক্ষ্মীপুর থানায় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। সাইটে কারিগরি তদারকির কোনো প্রকৌশলী না থাকায় মরিচা ধরা রড ও বালু-সিমেন্টের নি¤œমানের অনুপাত দিয়ে চলছে জোড়াতালির ফিনিশিং।
এছাড়াও লক্ষ্মীপুর এলজিইডি’র চলমান প্রায় সকল উন্নয়ন কাজে সিডিউল বহির্ভূত নি¤œমানের কাজ, ভূয়া বিল-ভাউচার, অর্থ আদায় করে বিভিন্ন অজুহাতে কাজের টাইম এক্সটেনশন ও ইস্টিমেট রিভাইজ, রোড কাটিংয়ের এর লক্ষ লক্ষ টাকা লোপাট, ল্যাবটেস্ট ও রোলার ফি নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি, লাগাতার টেন্ডার জালিয়াতিসহ বহুবিধ অনিয়ম দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সেগুলো প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই স্বাপেক্ষে দেশ ও জনস্বার্থে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আকারে পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত হতে থাকবে।
কাজ অসম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে শতভাগ বিল পরিশোধ ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার কারণ কী-এ বিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরীর ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন ধরেন নি। ফলে তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।